ভেষজ ঔষধ নিম পাতা, উপকারিতা ও অপকারিতা

দেশী নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিম পাতার ব্যবহার নীম পাতার ক্ষতিকর দিক নিম পাতার ঔষধি গুন নিম পাতার বৈশিষ্ট্য চুলকানিতে নিম পাতার ব্যবহার চর্মরোগে নিম পাতার ব্যবহার নিম পাতার উপকারিতা এলার্জি নিম পাতার ক্ষতিকর দিক অপকারীতা খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় নিম পাতার উপকারিতা এলার্জি নিম পাতা মুখে দিলে কি হয় নিম পাতার ব্যবহার নিম পাতার বড়ি খাওয়ার উপকারীতা কাঁচা হলুদ ও নিম পাতার গুনাগুন চুলের জন্য নিম পাতার উপকারিতা ঔষুধ, ওষুধ, প্রাকৃতিক, গাছ, বিচি

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নিমকে জাদুকরী পাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও প্রমাণ মিলেছে প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি এই নিমপাতার। এটিকে অনেকেই বলে থাকেন “ভেষজ ঔষধ নিম পাতা”। নিম একটি ঔষুধি গাছ। যার ডাল, পাতা, রস সবই কাজে লাগে। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নাশক হিসেবে নিম খুবই কার্যকর। আর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার। তাছাড়া (Neem Leaves) নিম পাতা প্রাকৃতিক ঔষধ নামেও বেশ পরিচিত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কিছু কার্যকরী উপায়

প্রাচীন ভারতীয় উপহাদেশে প্রায় ৫ হাজার বছরের আগে থেকে ঔষধি গাছ হিসেবে নিম পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে রয়েছে প্রায় ১৩০টি ঔষধি গুণাগুণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টিতে নিম গাছের গুরুত্ব অত্যধিক জরুরি।

নিম গাছ হল একটি ঔষধি গাছ। নিম গাছের ফুল, পাতা ,বাকল ,জড় সবই কাজে লাগে। নিম গাছের গুনাগুনের কথা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিম গাছকে “একুশ শতকের বৃক্ষ” বলে ঘোষণা করেছে।

নিম গাছের পরিচিতিঃ

নিম গাছের প্রচলিত নামগুলো হচ্ছে নিম, তিতা, ঘোড়া নিম।

নিম গাছের ইংরেজি নাম Indian Lilac বা Neem Tree.

নিম গাছের ইউনানী নাম আজাদরখতে হিন্দি এবং আয়ুর্বেদিক নাম নিম্ব।

নিম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Azadireachta Lndica A.jum.

নিম গাছের পরিবার Meliaceae.

নিম গাছের ব্যবহার্য অংশ সম্পূর্ণ গাছ।

নিম গাছের অবস্থা শুকনো/কাঁচা এবং এর স্বাদ খুবই তিতা।

নিম পাতার উপকারিতাঃ

ত্বকের যত্নে নিম পাতাঃ

বহুবছর ধরে রূপচর্চায় নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের দাগ দূর করতে নিম খুব ভালো কাজ করে।এছাড়াও এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। ব্রণ দূর করতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন।মাথার ত্বকে অনেকেরই চুলকানি ভাব হয়। নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগালে এ চুলকানি কমে। নিয়মিত নিমপাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি ও স্কিন টোন ঠিক হয়। নিম পাতার বিশেষ ঔষধি গুনাগুন এবংনিম পাতায় উপস্থিত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই, যা ত্বকে প্রয়োজনীয় আদ্রতা প্রদান করতে সাহায্য করে। ত্বকে নানা রকম ব্যাক্টেরিয়া বা ফাঙ্গাল জনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেকেই নিম পাতা দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করে থাকেন। নিম পাতার উপকারিতা পেতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিতে নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই জল ত্বকে লাগাতে পারেন।

জেনে নিন – “এই শীতে ত্বকের যত্নে কিছু টিপস“।

চুলের উপকারে নিম পাতাঃ

উজ্জ্বল, সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন চুল পেতে নিম পাতার ব্যবহার বেশ কার্যকর। চুলের খুসকি দূর করতে শ্যাম্পু করার সময় নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে চুল ম্যাসেজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খুসকি দূর হয়ে যাবে। চুলের জন্য নিম পাতার ব্যবহার অদ্বিতীয়। নিমে উপস্থিত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ছত্রাক নাশক এবং ব্যাকটেরিয়া নাশক উপাদান। এই উপাদান গুলি খুশকির চিকিৎসার জন্য মহাঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে যদি মাথার তালুর উপর ভাল করে লাগানো হয়, তাহলে খুশকি এবং চুলকানির মত সমস্যা থেকে নিরাময় পাওয়া যায়। নিমের ব্যাবহারে উকুনের সমস্যা দূর হয়। নিমের পেস্ট তৈরি করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন, তারপর মাথা শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন এবং উকুনের চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ান। সপ্তাহে ২-৩ বার ২ মাস এভাবে করুন। উকুন দূর হবে।

জেনে নিন – “চুলের যন্ত সম্পর্কে“।

ওজন কমাতে নিম পাতাঃ

দেহের ওজন কমাতে নিমপাতা খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে দেহের ওজন দিন দিন বেড়ে চলেছে। ওজন কমানোর সঠিক উপায় অনেকের জানা নায়। এ কারণে ওজন বেড়ে চলেছে। নিমের ফুল শরীরের চর্বি কমাতে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। দেহের ওজন কমাতে নিমপাতা এবং নিমের ফুল চূর্ণ বেটে করে, ১ চা চামচ মধুর সাথে, এক চা-চামচ লেবুর রস মিশ্রণ করে প্রতিনিয়ত খালি পেটে সেবন করতে পারেন। এটি খুব দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত চা, কফি পানের ক্ষতিকর দিক জানতে ক্লিক করুন।

রক্ত পরিষ্কার করতে নিম পাতাঃ

দেহের রক্ত পরিষ্কার করতে নিম পাতা খুবই উপকারী একটি উপাদান। নিম পাতার রস প্রতিনিয়ত সেবন করলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে আসে এবং রক্ত পরিষ্কার করেএছাড়াও হৃদপিন্ডের গতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিনিয়ত নিম পাতার রস সেবন করতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিম পাতার ভূমিকা অপরিসীম। নিম পাতায় উপস্থিত উপাদান গুলি শরীরকে ভিতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে থাকে। রক্ত বিশুদ্ধ করতে নিম পাতা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নিমপাতা খাওয়া উচিত।

মানসিক শান্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ

কৃমিনাশক সমস্যায় নিম পাতাঃ

নিম পাতা কৃমি বিনাশ করতে ভাল ভূমিকা পালন করে থাকে। পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। অনেক সময় শিশুদের পেটে কৃমির অস্তিত্ব দেখা যায় এতে করে, কৃমি আক্রান্ত শিশুদের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এই কৃমি বিনাশ করতে নিম গাছের মূলের ছাল শুকিয়ে গুড়ো করে নিয়ম করে খাওয়ান হয় তাহলে কৃমির বিনাশ করা যায় ।তবে এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত ।

দাঁতের রোগ নিরাময়ে নিম পাতাঃ

দাঁতের সুস্থতায় নিমের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করার প্রচলন রয়েছে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত হবে মজবুত, রক্ষা পাবেন দন্ত রোগ থেকেও। প্রধানত স্টেপটোকক্কাস মিউট্যান্সের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির ফলে মুখগহ্বরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে নিরাময় পেতে নিম ও নিম পাতা খুবই উপকারী একটি উপাদান। এর পাশাপাশি নিমের তেল বিভিন্ন টুথপেস্ট এবং ফেসওয়াশে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এখানে সাধারণ কিছু উপকারিতা তুলে দেওয়া হল, এগুলো ছাড়া এই নিম পাতা ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে, আলসার, ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে।

দাঁতের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা

নিম পাতার চাঃ

নিমের ভেষজ চা পানীয় হিসেবে পান করলে পেটের নানা সমস্যার সমাধান হয়। নিয়মিত এই পাতা খেলে এটি হজম ক্ষমতার উন্নতি করে, শরীরের ক্লান্তি দূর করে। তাছাড়াও গ্রীন-টিও শরীরের জন্য অনেক উপকারি। বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি দেখতে পারেন – “গ্রিন টি – সবুজ চায়ের উপকারিতা“।

নিম পাতার উপাদান পুষ্টিগুণের পরিমাণ জেনে নিনঃ

প্রোটিন ২.৪৮ গ্রাম

ফাইবার ৬.৭৭ গ্রাম

আয়রন ৫.৯৮ মিলি গ্রাম

ক্যালোরি ৪৫ মিলি গ্রাম

ফ্যাট ০.০০৩ গ্রাম

ক্যালসিয়াম ১৭৫.৫ মিলি গ্রাম

ফসফরাস ২৩ মিলি গ্রাম

সোডিয়াম ২৫.২৭ মিলি গ্রাম

পটাশিয়াম ৮৮.৯ মিলি গ্রাম

ম্যাগনেসিয়াম ৪৪.৪৫ মিলি গ্রাম।

নিম পাতার অপকারিতাঃ

নিম পাতার এতসব উপকারী গুণের সঙ্গে এর ক্ষতিকর প্রভাবও রয়েছে। নিম পাতার উপকারিতা রয়েছে মনে করে মাত্রা অতিরিক্ত সেবন করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। নিম্নে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হল –

কিছু কিছু সময় নিম পাতা অতিরিক্ত সেবনের ফলে পাকস্থলী সমস্যার সৃষ্টি হয়। নিমপাতা প্রচুর পরিমাণ তিতা হয়ে থাকে যার ফলে পাকস্থলির সমস্যার সৃষ্টি হয়। যার ফলে মাত্রা অতিরিক্ত নিম পাতা সেবন করলে অপকারিতার সম্ভাবনা থাকে।

কোন ধরনের শারীরিক অপারেশন করলে নিম পাতা খাওয়া বাদ দিতে হবে। কারণ নিমপাতা সকল ধরনের ভিটামিন থাকে যার ফলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েদের নিম পাতা খাওয়া উচিত নয়। কারণ মায়ের গর্ভে বাচ্চা মায়ের খাবার সেবন করে থাকে। নিম পাতাগুলি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিরোধক কারণ তারা গর্ভপাতের সম্ভাব্য কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে৷ তাই গর্ভবতী মহিলাদের নিম পাতা ব্যবহার থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।

যেসব লোকের নিম্ন রক্তচাপ এবং প্রস্রাবের সমস্যা রয়েছে তাদের অতিরিক্ত নিম পাতা খাওয়া একদমই ঠিক না। কারণ নিম পাতা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকই কিন্তু নিম্ন রক্তচাপ আরো নিম্ন করে দেয়। যার ফলে উপকারের পরিবর্তে অউপকারিতা বেশি হয়।

 

নিচের পোস্টগুলো দেখতে পারেনঃ

পুদিনা পাতা (Mint Leaves) এর উপকারিতা ও অপকারিতা।

মরিঙ্গা বা সজিনা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা।

কালিজিরা – একটি প্রাকৃতিক মহৌষধ।

মধু (Honey) নিয়ে বিস্তারিত।

সংগৃহীত